শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন
বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দেড় মাস ধরে গ্যারেজবন্দি থাকার ঘটনায় নতুন করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গ্যারেজের শাটার নষ্ট থাকার অজুহাত দেখানো হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত কারণ হলো উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহেল মারুফের সরকারি গাড়ির চালক সংকট। নির্ধারিত চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স চালককেই কর্মকর্তার গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আর এ কারণেই জরুরি রোগী পরিবহনের একমাত্র সরকারি সেবাটি কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে শাটার নষ্ট থাকার কারণ দেখিয়ে অচল রাখা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সের চালককে সেই গাড়ি চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য বরাদ্দ সরকারি সেবাটি প্রায় দেড় মাস ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির চালক না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী সেই গাড়িটিই গ্যারেজে থাকার কথা, অ্যাম্বুলেন্স নয়। জনগণের জরুরি সেবার জন্য বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্সকে গ্যারেজবন্দি রেখে তার চালক দিয়ে কর্মকর্তার গাড়ি সচল রাখাকে তারা অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কর্মকর্তার গাড়ির চেয়ে জরুরি রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্স সেবাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চালক সংকটের অজুহাতে অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ রেখে কর্মকর্তার গাড়ি সচল রাখা দায়িত্বে অবহেলার শামিল। বিশেষ করে হাসপাতালটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে হওয়ায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী এখানে আনা হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের দ্রুত হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল কিংবা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, জনগণের জরুরি সেবার জন্য বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্স ও তার চালককে অন্য সরকারি গাড়িতে ব্যবহার করার কারণে রোগীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে অ্যাম্বুলেন্স সচল করা, চালক সংকট নিরসন এবং জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহেল মারুফ বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, “আমি এখানে আসার পর ব্যক্তিগত টাকা খরচ করে অ্যাম্বুলেন্স সচল করেছি। যখন অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহনের প্রয়োজন থাকে না, তখন সরকারি অন্য কাজে সরকারি চালক ব্যবহার করেছি। রোগীকে কষ্ট দিয়ে আমি কখনও আমার গাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স চালক ব্যবহার করিনি।”